জয় আর নিহা খুব ভালো বন্ধু,ওরা একে অপরকে ছাড়া যেনো থাকতেই পারে না,তাই আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ি এদেরকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখে, মানে সবাই মনে করে ওদের মধ্যে কিছু একটা আছে।জয় আর নিহা অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ালেখা করে।
জয় আর নিহা প্রতিদিনের মতো আজ ওও একসাথে কলেজে গেলো। নিহা দেখতে সুন্দর, তাই ওর পিছনে ছেলেদের অভাব নাই। একটা বখাটে ছেলে ও নিহার প্রেমে পরে।প্রায় প্রতিদিনকার মতো আজ ও নিহারে রাস্তায় উত্তপ্ত করলো।
নিহার এসব ঘটনার সম্মুখীন হলে আগের মতো আর এতো ভয় হয় না, এমন ছেলেদের কাছ থেকে পেতে পেতে এটা তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে।
-দোস্ত তোর কি এসবে খারাপ লাগে না?(জয়)
-এখন আর খারাপ লাগেনা।
-ওহহ
-জানিস জয় আগে এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে রুমে গিয়ে মা-বাবার সামনে খুব কান্না করতাম আর অনেক ভয় পেতাম
-হুমম জানি তো
-হুম একটা মেয়ে সুন্দর হলে কি দোষ?
-আচ্ছা দোস্ত চল এখন ক্লাসের সময় চলে যাচ্ছে
-হুম চল
জয় আর নিহার বাবা খুব ভালো বন্ধু । দুজনের বাবা-ই শেয়ার ব্যাবসা তাই দুজনের সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই ভালো। আর ওদের বাসা এক ফ্লাটেই।
জয় আর নিহা প্রতিদিন একসাথে কলেজে আসে যায়।ধর্ষ নে
।ধর্ষ ন
-আন্টি জয় কই(নিহা)
-ও তো এখনো ঘুমাচ্ছে(জয়ের মা)
-কিহহহ এখনো রেডি হয় নাই?
-না
-আজকে কলেজে বড় একটা অনুষ্টান আছে
-আচ্ছা তুই রুমে গিয়ে ওরে ডেকে উঠা
-আচ্ছা ওরে দেখাচ্ছি মজা
নিহা জয়ের রুমে গিয়ে দেখে জয় ঘুমাচ্ছে……
-এই ছাগল উঠ (নিহা)
-কে?
-তোর জম
-যা ভাগ
এটা বলার সাথে সাথে জয়ের কম্নল টেনে ফেলে দিয়ে টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে জয়ের শরীরে ঢেলে দিয়েছে,পানি দেওয়ার সাথ সাথে জয় শুয়া থেকে উঠে নিহার চুলে টান দিয়ে ধরছে।
-এই চুল ছাড় বলছি(নিহা)
-তোর চুল টাইন্না ছিড়া ফেলমু
-তুই এখনো রেডি হলি না কেন?
-আজকে কলেজ বন্ধ
-ঐ তোরে কে বলছে?
-স্যারে
-চুপ আজকে কলেজে অনুষ্টান
-এর লাইগা ই তো আমার জন্য বন্ধ
-মানে কি?
-কলেজে অনুষ্টান মানে আমার ঘুম দিবস
-তাহলে কি যাবি না?
-আজ ভালো লাগতাছে না,তুই যা আজকে প্লিজ
-আমার ভয় করে
-কেন?
– ঐ যে আমাদের কলেজে একটা ছেলে আছে
-কোন ছেলেটা?
-এমপির ভাগিনা নাকি কি যেনো
-হুম এমপির ভাগিনা
-ঐ ছেলেটা আমাকে আজ ফেবুতে প্রপোজ করছে এর জন্য ব্লক করে দিছি তাই একটু ভয় করতাছে।
-আরে আজ এতো বড় অনুষ্টান এসব ইভটিজিং করার সময় পাবে না।
-তা ও ভয় করতাছে
-আরে ভয়ের কিছু নাই,আর আজকে আমার ভালো লাগতাছে না
-ওকে তাহলে থাক তুই
নিহা জয়ের রুম থেকে রাগ দেখিয়ে বের হয়ে গেছে
নিহা আজ রাগ করে বাসা থেকে একা একা কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে।রাস্তায় ইমন নামে এমপির ভাগিনা টারে সামনে দেখা যাচ্ছে, তাই নিহা রাস্তার অপর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন ইমন এসে নিহারে রাস্তায় থামিয়ে বলল…
-কাল ব্লক করছো কেন?(ইমন)
-এমনি
-এমনি কেন?
-আমার ভালো লাগে নাই তাই ব্লক করছি
-ভালো লাগে না কেন?
-ভালো লাগতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি?
-জয়রে খুব ভাল্লাগে তাইনা?
-মানে?
-জয়ের সাথে টাংকি মারো সেটা বলতাছি
-জয় আমার খুব ভালো বন্ধু
-বন্ধু? হা হা হা
-এখানে হাসার কি আছে?
-তোমার এই উদ্ভট কথা শুনে
-আমরা ভালো বন্ধু
-তাহলে আই লাভ ইউ
-আই হেইট ইউ
ইমনের সাথে আরেকটা ছেলে এসে বলে ইমনরে প্রপোজ কর
-কেন?
-প্রপোজ করবি এবং জড়িয়ে ধরবি
-না ধরলে?
-তোরে ধরবো
-মানে?
-ঐদিকে আয় বলে ইমন হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে তখন নিহা হাত ঝারি দিয়ে রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ইমনের গালে থাপ্পর বসিয়ে দিলো,ইমন তাখন ওরে জোরে দুই গালে দুইটা থাপ্পর দেওয়া মাত্র নিহা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
নিহা কতক্ষণ পর সে নিজকে একটা রুমে আবিষ্কার করলো। তখন দেখে ওর হাত পা বাধা
-আমি এখানে কেন?(নিহা)
-আদর দিবো বলে এই রুমে এনেছি(ইমন)
-মানে কি?
-মানে আজ তোর রুপের বরাই দেখামু
-প্লিজ ভাই আমার সাথে এসব করবেননা, আর আমি রুপের বরাই করি না
-তাহলে এতদিন আমাকে তোর পিছনে ঘুরালি কেন?
-আমি প্রথম থেকেই আপনার প্রতি ইন্টারেষ্টেড না
-কেনো আমার কি চেহারা খারাপ?(কাক নিজের কন্ঠ অনেক সুন্দর ভাবে তাই কাক সারাদিন চিল্লায়,ইমন ও এখন এমন বলছে)
-ভাইয়া আমি এসব বলি নাই
-তাহলে আমাকে ব্লক মারলি কেন?
-ভাই আমি রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নাই তাই স্যরি
-আজ স্যরি তে কাজ হবে না, আজ তোর দেহ চাই, এই বলে নিহার কাপর টেনে ধরছে……….
।
নিহা অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু সে ব্যর্থ।
একটা জানোয়ার একটা মেয়েকে রুমে পেলে যা করে নিহার সাথে ইমনও তাই করছে।
ইমনের এই সুখের ১০ মিনিটে নিহার সব স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেছে।
নিহা লোকের ভয় করে রাতে ফিরছে এদিকে তার মা-বাবা টেনশনে শেষ। নিহা দরজায় কলিংবেল চাপার সাথে সাথে ওর মা ওর এমন চেহারা দেখে আতঙ্কিত হয়ে যায়, মা তোর কি হয়ছে রে?তুই আজ এতো দেরি করলি কেন?তোর মোবাইল বন্ধ কেন?নিহা হাউমাউ করে ওর মারে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো
-কিরে মা কি হয়ছে তোর(নিহার মা)
-আমার সব শেষ
-মানে?
-এমপির ভাগিনা আজ আমাকে একটা রুমে যা ইচ্ছা তা করছে(কান্না করতে করতে)
নিহার মা এই কথা শুনে থ মেরে দাড়িয়ে আছে।কতক্ষণ পর নিহার বাবা আর জয় একসাথে খুজতে বের হয়েছিল তারা রুমে এসে এই কথা শুনে জয়ের বাবা ও নির্বাক হয়ে গেছে।
নিহারে গোসল করিয়ে আনার পর ওর রুমে সবাই বসে রয়ছে তখন জয় গিয়ে ওর সাথে কথা বলার সময়…….
-জয় রে তোরে আমি বলছিলাম আমার খুব ভয় করতাছে কিন্তু…………….
চলবে



Leave a Comment